কোভিড-পরবর্তী পরিযায়ী শ্রমিক বাস্তবতা - The post-COVID reality of migrant workers

 কোভিড-পরবর্তী পরিযায়ী শ্রমিক বাস্তবতা - The post-COVID reality of migrant workers


কোভিড-১৯ মহামারী পরিযায়ী শ্রমিক সমাজের জন্য এক বিশাল সংকট এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। বিশেষ করে লকডাউন ও কর্মসংস্থান বন্ধের কারণে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েন, বহু শ্রমিক দীর্ঘ পথ হেঁটে নিজ গ্রামে ফিরে আসতে বাধ্য হন। কোভিড পরবর্তী সময়ে তাঁদের জীবনযাত্রা ও কর্মক্ষেত্রে নানা পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। এই আর্টিকেলে সেই বাস্তবতা আলোচনা করা হলো।


লকডাউনের সময় শ্রমিক সংকট

২০২০ সালে লকডাউনের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে লাখ লাখ পরিযায়ী শ্রমিক কলকারখানা, নির্মাণ-খাতসহ অন্যান্য কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কর্মহীন হন। তাদের খাবার, ঘরবাড়া ও অর্থাভাব দেখা দেয়। সরকারী পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই হেঁটে হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরে যান, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ছিল। রাস্তায় অনাহারে, তৃষ্ণায়, দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন।


কোভিডের প্রভাব ও কর্মসংস্থানের পরিবর্তন

কোভিড পরবর্তী সময়ে কাজের পরিবেশে স্বাস্থ্যবিধি কঠোর হয়। শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সত্ত্বেও কাজের সুযোগ সীমাবদ্ধ থাকে। অনেকে বেকার বা অস্থায়ী কাজের দিকে মনোযোগ দেন। করোনার আগের মতো স্বাভাবিক শ্রম বাজারে ফেরার গতি ধীর এবং শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার প্রকল্প চালু হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা পর্যাপ্ত নয়।


সামাজিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ

পরিযায়ী শ্রমিকেরা ক্ষুদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ, অস্বাস্থ্যকর আবাসনে থেকেও মানসিক অবসাদের সম্মুখীন হন। পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা তাঁদের মানসিক চাপ বাড়ায়। দীর্ঘসময় বাড়ি থেকে বাইরে থাকায় পরিবারে সম্পর্ক দুর্বল হতে পারে।


পুনর্বাসন ও সরকারী সহায়তা

সরকার ও বিভিন্ন এনজিও পরিযায়ী শ্রমিকদের পুনর্বাসনের জন্য নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিকদের পুনর্বাসন, স্বাস্থ্য সেবা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসুরক্ষা, খাদ্য সহায়তা ও পরিবহন ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।


ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও সুপারিশ

- শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা নিশ্চিত করতে হবে।

- কর্মক্ষেত্রে অস্থায়ী ও অনিয়মিত কাজের পরিবর্তে স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।

- শ্রমিক সংগঠন ও এনজিও’দের সাথে সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে।

- মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।

- ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে শ্রমিকদের তথ্যগবেষণা ও সেবা পৌঁছানো সহজ করতে হবে।


কোভিড-১৯ পরবর্তীতে পরিযায়ী শ্রমিক সমাজের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এত বড় সংকট বিশ্ব ও দেশের শ্রমবাজারে নতুন বাস্তবতার সূচনা করেছে। শ্রমিকদের স্বস্তি ও নিরাপত্তার জন্য চূড়ান্তভাবে সরকার ও সমাজের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। যাতে ভবিষ্যতে কোনও দুর্যোগে শ্রমিক সমাজ যেন সুরক্ষা ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়। 


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post