মানসিক স্বাস্থ্য ও পরিযায়ী শ্রমিক - Mental health and migrant workers
পরিযায়ী শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও তারা অনেক সময় মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও মানসিক চাপের শিকার হন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পরিবার থেকে দূরে থাকা, কাজের চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যত সংক্রান্ত উদ্বেগ তাঁদের মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে। এই নৈর্ব্যক্তিক কষ্ট তাঁদের জীবনের মানকে হ্রাস করে এবং সামাজিক, শারীরিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা বৃদ্ধি করে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের মানসিক চাপের কারণ
- **পরিবার থেকে বিচ্ছেদ:** দীর্ঘ সময় পরিবারের থেকে দূরে থাকা, সন্তান ও সঙ্গীদের সঙ্গে দেখা করার অভাব মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
- **অস্থির কর্মপরিবেশ:** অনিয়মিত কাজ, মজুরি দেরিতে পাওয়া ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা মানসিক অবস্থা খারাপ করে।
- **সামাজিক বৈষম্য:** স্থানীয়দের থেকে বৈষম্য, ভাষাগত বাধা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে মানসিক কষ্ট বেড়ে যায়।
- **অপর্যাপ্ত জীবনযাত্রার মান:** সস্তা আবাসন, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
লকডাউনের সময় মানসিক স্বাস্থ্য সংকট
কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় পরিযায়ী শ্রমিকরা কর্মহীন হন এবং দীর্ঘ সময় অসংগঠিত অবস্থায় থাকেন, যা তাদের মানসিক অবস্থা আরও খারাপ করে। অস্পষ্ট ভবিষ্যৎ ও অসহনীয় পরিস্থিতি অনেক শ্রমিককে হতাশা, উদ্বেগ ও বিষন্নতায় আক্রান্ত করে।
সামাজিক সহায়তা ও মানসিক স্বাস্থ্য
পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সমাজ ও সরকার থেকে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা অপ্রতুল। শ্রমিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা চিহ্নিত এবং সমাধানের কাজ করছে, তবে প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সহজলভ্য সেবা প্রয়োজন।
সমাধান ও প্রস্তাবনা
- পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরামর্শ সেবা চালু করা।
- শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও সেবা প্রদান।
- সামাজিক ইন্টিগ্রেশন ও সংগঠনের মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতা কমানো।
- পরিবার ও কমিউনিটির সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ রাখতে সহায়তা করা।
- কর্মপরিবেশ উন্নত ও নিরাপদ করা।
পরিযায়ী শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের মাধ্যমে তাঁদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। সম্প্রদায়, সরকার এবং স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিযায়ী শ্রমিক সমাজের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব।