Migrant workers and modern communication technology - পরিযায়ী শ্রমিক এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি

পরিযায়ী শ্রমিক এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি- Migrant workers and modern communication technology


পরিযায়ী শ্রমিকরা জীবিকা নির্বাহের জন্য দূর গন্তব্যে চলে যায় এবং তাদের পরিবর্তিত পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য রাখা ও যোগাযোগ স্থাপন আগে কখনোই এত সহজ ছিল না। আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি যেমন স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তাঁদের জীবন ও কর্মে একটি বিপ্লবী পরিবর্তন এনেছে। এই প্রযুক্তি শ্রমিকদের জন্য সমর্থন, তথ্য, সুযোগ এবং সামাজিক সংযোগ বৃদ্ধি করেছে যা তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে।


মোবাইল ফোন ও স্মার্টফোনের ভূমিকা

মোবাইল ফোন পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। তাদের কর্মস্থল থেকে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা বা লেখা সহজ হয়েছে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে ভিডিও কল, মেসেজিং এবং সামাজিক মিডিয়ার আওতায় কাজ ও জীবনের নানা দিক সম্পর্কে তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। এতে করে পরিবার থেকে দূরে থাকলেও সম্পর্ক থাকছে ঘনিষ্ঠ এবং জরুরি সময়ে দ্রুত সমাধান পাওয়া যাচ্ছে।


ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যম

ইন্টারনেট সংযোগে শ্রমিকরা তথ্যের সহজ প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন যা তাদের শ্রম সম্পর্কিত অধিকার, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সরকারি প্রকল্প ও কর্মসংস্থান সম্পর্কে সচেতন করছে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব ইত্যাদের মাধ্যমে বিভিন্ন ট্রেনিং ভিডিও দেখা, সংবাদ বোঝা এবং নিজস্ব সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমগুলো পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সমন্বয় ও সংগঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


ডিজিটাল সেবার সুবিধা

সরকারি প্রকল্প যেমন ‘শ্রমশ্রী’ বা ‘পরিজয়ী সাহায্য’ ইত্যাদির তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া এখন অনলাইনে উপলব্ধ। শ্রমিকরা মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে সহজে আবেদন করতে পারেন, সহায়তা পেতে পারেন এবং তাঁর অবস্থা ট্র্যাক করতে পারেন। ডিজিটাল ব্যাংকিং ও মোবাইল মানি পরিবহন তাঁদের আর্থিক লেনদেন সহজ করেছে, যা দূরবর্তী পরিবারকে অর্থ পাঠানোতে সহায়ক।


সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা

যদিও প্রযুক্তির সুবিধা ব্যাপক, তবুও অনেক পরিযায়ী শ্রমিক প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারছে না। কারণ হিসাব করলে—

- প্রযুক্তি সচেতনতা ও দক্ষতার অভাব।

- স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যয়বহুলতা।

- ভাষাগত বাধা ও ব্যবহার-বিধি জানা না।

- ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় উদ্বেগ।

- কাজের জায়গায় প্রযুক্তি ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা।


সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ

পরবর্তী সময়ের জন্য প্রযুক্তি শ্রমিকদের জন্য আরও প্রয়োজনীয় ও সহজলভ্য সেবা প্রদান করবে বলে আশা করি। যেমন এআইভিত্তিক ট্র্যাকিং সিস্টেম, স্বয়ংক্রিয় আবেদন ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য পরিষেবা মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রমিকরা প্রযুক্তির পূর্ণ সুবিধা নিতে পারবে ও সামাজিক-অর্থনৈতিক জীবনে সাফল্যের ক্ষেত্র বিস্তৃত হবে।



আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবনে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এটি যোগাযোগ, তথ্য, অর্থ ও সুরক্ষার নতুন প্রবাহ সৃষ্টি করেছে। তবে সম্পূর্ণ লাভবান হওয়ার জন্য নিম্নবিত্ত ও অপ্রতিনিধিত্বশীল শ্রমিকদের প্রযুক্তি শিক্ষায় বিশেষ নজর দিতে হবে এবং সরকারি-স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ আরো শক্তিশালী করতে হবে। এভাবেই পরিযায়ী শ্রমিক সমাজ উন্নত জীবনের দিকে এগিয়ে যাবে। 


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post