West Bengal migrant workers: 'Shramshree' Scheme

পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা ও সমাধান: শ্রম আইন ও 'শ্রমশ্রী' প্রকল্প

পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা ও সমাধান: শ্রম আইন ও 'শ্রমশ্রী' প্রকল্প - West Bengal migrant workers: 'Shramshree' Scheme


বাংলা ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের পরিযায়ী শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও তাঁরা নানা ধরনের সমস্যা ও বৈষম্যের শিকার হন। সময়ের সাথে শ্রম আইন ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অনেক পরিবর্তন এসেছে, তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের 'শ্রমশ্রী' প্রকল্প শ্রমিকদের পুনস্বস্থান এবং সুরক্ষায় এক উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ, যা অব্যাহত সংস্কারের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের উন্নত জীবনের সুযোগ তৈরি করছে।


পরিযায়ী শ্রমিকদের বর্তমান সমস্যা

১. **অসহায়তা ও বঞ্চনা**: অধিকাংশ পরিযায়ী শ্রমিক অসংগঠিত খাতে কাজ করেন, যেখানে শ্রমিক অধিকার প্রাপ্তির সুযোগ কম। মজুরি দেরিতে পাওয়া, কাজ হারানোর উদ্বেগ ও যন্ত্রণায় দিন কাটে।  

২. **অপূর্ণ আইন প্রয়োগ**: ১৯৭৯ সালের ‘ইন্টার স্টেট মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কমেন অ্যাক্ট’ থাকলেও এর বাস্তবায়ন নেই বললেই চলে, ফলে শ্রমিকরা যথাযথ সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত।  

৩. **নথিপত্রের অভাব**: পরিচয়পত্র না থাকায় সরকারি সুবিধা, ভোটাধিকার ও সামাজিক সুরক্ষার বাইরে পড়ে যান বহু শ্রমিক।  

৪. **নিরাপত্তাহীনতা**: কর্মক্ষেত্র ও বাসস্থানে নিরাপত্তা সংকট থেকে শুরু করে সামাজিক বৈষম্য শ্রমিকদের জীবন কঠিন করে তোলে।


‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প: লক্ষ্য ও কার্যক্রম

পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও সুরক্ষায় 'শ্রমশ্রী' প্রকল্প চালু করেছে। ইয়াতে শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরে আসার সময় এককালীন সহায়তা এবং মাসিক ভাতা পান। প্রকল্পের অন্যান্য সুবিধা হলো:  

- পরিবার ও শিশুখেলাধুলার সহায়তা  

- স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষণ প্রদান  

- নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি  

- পরিচয়পত্র প্রদান ও সরকারি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি


সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ ও ফলাফল

এখানে উল্লেখযোগ্য যে, শ্রমশ্রী প্রকল্প শ্রমিকদের প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকলেও প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য বিষয়টি অধিক মনোযোগের দাবী রাখে। দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রকৃত সফলতার মাপকাঠি।


অন্যান্য পরামর্শ ও দাবী

- সকল রাজ্যে পরিচয়পত্রের স্বীকৃতি নিশ্চিতকরণ, যা সরকারি সুবিধার ক্ষেত্রে বাধাহীন প্রবেশ নিশ্চিত করবে।  

- ভাষা, ধর্ম নির্বিশেষে সকল শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সমন্বয়।  

- শ্রমিক সংগঠন ও এনজিওদের মাধ্যমে শ্রমিকদের সচেতনতা এবং সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ বৃদ্ধি।  

- শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও সামাজিক সেবা উন্নত করা।


পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সুরক্ষা, নাগরিক অধিকার এবং দারিদ্র্য বিমোচনে শ্রমশ্রী প্রকল্প একটি ইতিবাচক সূচনা। তবে প্রকৃত উন্নতি সাধনের জন্য আইনি কাঠামো জোরদার এবং বাস্তবায়নের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। শ্রমিকরা যেন মর্যাদার সঙ্গে কাজ করতে পারে এবং এক উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখতে পারে, সেটিই বাস্তব লক্ষ্য হওয়া উচিত।


Post a Comment (0)
Previous Post Next Post