সমাজ, রাষ্ট্র ও পরিযায়ী শ্রমিকদের অধিকার - Society, the State and the Rights of Migrant Workers
পরিযায়ী শ্রমিকরা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাহন হলেও তারা অধিকাংশ সময় সমাজ ও রাষ্ট্রের চোখে ‘অতিথি’ হিসেবে বিবেচিত হন। এদের আদৌ কি পূর্ণ নাগরিক অধিকার রয়েছে? তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা ও মানবাধিকার কতটুকু নিশ্চিত করা হয়েছে? এই লেখায় এই বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হলো।
নাগরিক অধিকার ও সুরক্ষা
পরিযায়ী শ্রমিকদের নাগরিক অধিকারের মধ্যে আছে ভোটার তালিকা, রেশন কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সুবিধা। তবে বাস্তবে তাঁরা অনেকসময় এসব সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকেন। বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে নাগরিক অধিকার ভিন্নতা প্রযোজ্য হওয়ায় শ্রমিকরা সুযোগ সুবিধা পেতে সমস্যায় পড়েন। পুরনো বাড়ি ছেড়ে নতুন এলাকায় থেকে প্রকৃত বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া জটিল হওয়ায় বহু শ্রমিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হন।
সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ প্রোগ্রাম
সরকারের বিভিন্ন স্কিমে পরিযায়ী শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টা রয়েছে, যেমন ‘শ্রমশ্রী প্রকল্প’, স্বাস্থ্য বীমা, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি। তবে অনেক শ্রমিক এখনও এই সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত। প্রশাসনিক জটিলতা, তথ্যের অভাব ও নথিপত্র নিয়ে সমস্যার কারণে প্রকৃত সুবিধাভোগী শ্রমিকরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বৈষম্য ও অবহেলা
ভাষা, জাতি, ধর্ম ও সামাজিক পরিচয়ের কারণে পরিযায়ী শ্রমিকরা নানা অমানবিক বৈষম্য ও অবহেলার শিকার হন। শহরে পৌঁছানোর পর বাসস্থান, কাজের পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে। এর ফলে তাঁদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ
রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো শ্রমিকদের জীবনের মান উন্নয়ন, অধিকার রক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে নতুন কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তথ্যভাণ্ডার তৈরি ও সঠিক কর্মপরিকল্পনা না থাকায় শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
সামাজিক আন্দোলন ও সংগঠন
শ্রমিক সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা ও এনজিও পরিযায়ী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তারা বিভিন্ন আন্দোলন, স্টাডি ও সচেতনতা কর্মসূচি চালিয়ে শ্রমিক সমাজের স্বীকৃতি ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।
দেশের উন্নতির জন্য পরিযায়ী শ্রমিকদের পূর্ণ অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের প্রতি সঠিক মনযোগ ও নীতি গ্রহণ ছাড়া একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত সমাজের কথা ভাবা সম্ভব নয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব এই শ্রমজীবীদের সম্মানিত ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা।