শিশু ও কিশোর পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা - About child and adolescent migrant workers
পরিযায়ী শ্রমিক দলে শিশু ও কিশোর শ্রমিকদের উপস্থিতি একটি উদ্বেগজনক বিষয়। করোনা মহামারীর পর এই সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থের অভাবে কিংবা পরিবারের সংকটের কারণে শিশু-কিশোরেরা স্কুল ছেড়ে অন্য রাজ্যে কাজের সন্ধানে বেরোতে শুরু করেছে। এরা স্কুল ছুটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈধভাবে কাজের সুযোগ পায় না, এবং নানা শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ঝুঁকির মুখে পড়ে।
স্কুল ছুটি ও শিক্ষার সংকট
বিগত বছরগুলিতে করোনা মহামারীর কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় বহু শিশু পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে। কাজের তাগিদে শিশুরা স্কুল বিকল্প কাজে লেগে পড়ে। ফলস্বরূপ তাঁদের শিক্ষার ক্ষতি হয় এবং ভবিষ্যতে উন্নত জীবনের সম্ভাবনা সংকুচিত হয়। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে পরিবার অর্থনৈতিকভাবে তাদের ওপর নির্ভরশীল, যার কারণে তারা কাজ ছেড়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না।
কাজের ঝুঁকি ও অবস্থান
শিশু শ্রমিকরা প্রায়ই নির্মাণ, কৃষি, কারখানা বা ক্ষুদ্র খাতে কাজ করেন, যেখানে নিরাপত্তার অভাব থাকে। তাঁরা দৈনন্দিন ঝুঁকি মোকাবিলা করেন – দুর্ঘটনা, শারীরিক শোষণ, অসুস্থতা সবই তাদের বাধ্যতামূলক অংশ। সরকারি নীতি ও শ্রম আইন শিশু শ্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেও বাস্তবায়নে বড় ফাঁক থেকে যায়।
সমাজে শিশু শ্রমের প্রভাব
শিশু শ্রমের কারণেই সমাজে দারিদ্র্য, শিক্ষা সংকট ও মানসিক অবনতি বাড়ে। শিশুরা পূর্ণ বিকাশে বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং সমাজে অপরাধ প্রবণতাও বেড়ে যেতে পারে। এই সংকট শিশুদের অধিকার এবং মানবিক উন্নয়নে বিরূপ প্রভাব ফেলে।
পুনর্বাসন ও শিক্ষা উদ্যোগ
কিছু সরকার ও বেসরকারি সংস্থা শিশু পরিযায়ী শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও শিক্ষার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও বিদ্যালয়ে ফেরানোর প্রকল্প চলছে। কিন্তু কার্যকর বাস্তবায়ন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং সামাজিক সহায়তার অভাব এখনও বড় সমস্যা।
শিশু ও কিশোর পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা, শিক্ষা ও উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দেশে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য। তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করাই সমাজের দায়। শিশুশ্রমের মূলোৎপাত রোধের জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজ ও পরিবারকেও সচেতন হতে হবে।